পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ল
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন 'নোটিস টু এয়ারমেন' (নোটাম) জারি করে ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ মে ভোর ৫টা পর্যন্ত সব ভারতীয় নিবন্ধিত, লিজ নেওয়া, বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।
নিষেধাজ্ঞার পটভূমি ও প্রভাব
২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পাকিস্তান ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কয়েক বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান।
ভারত এ হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়। পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তের পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি
পেহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬–৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে 'উসকানিবিহীন' হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস' নামে বড় পরিসরের পালটা সামরিক অভিযান চালায় এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।
পাকিস্তানের দাবি, তারা তিনটি রাফালসহ ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান এবং বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
এ সময় ভারতের বিমান খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পাকিস্তানের বিমান খাতে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। ওই দুই ক্ষেত্রেও ভারতের বিমান চলাচলে বেশি বিঘ্ন ঘটেছিল।
বর্তমান নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোয় আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিমান খাতের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



