গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত, নতুন হামলায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন
গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সোমবার (২০ এপ্রিল) ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত বছরের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া কথিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে দখলদার বাহিনীর হামলায় ৭৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবারের হামলার বিস্তারিত বিবরণ

সোমবার সংঘটিত হামলায় নিহতদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে একটি পুলিশ চৌকিতে গোলাবর্ষণে তিনজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলায় একজন এবং উত্তর গাজা সিটির কাছে জেইতুন এলাকায় একটি সড়কচৌমাথায় আরেকজন নিহত হন। এই হামলাগুলো গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে একই দিনে সংঘটিত হয়েছে, যা অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে হতাহতের পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় ৭৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে। গাজার বেসামরিক জনগণের উপর এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করছে। এই তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে গাজায় মানবিক সংকটের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়। গাজার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ ও হামলার মধ্যে বসবাস করছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গাজায় চলমান সংঘাতের পাশাপাশি লেবানন-ইসরাইলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের কার্যক্রম চালাতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার বেসামরিক জনগণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে।