যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও গত সপ্তাহেই দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসার কথা জানিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য শর্তাবলি
যুদ্ধ বন্ধের এই চুক্তি হলে তাতে কী কী বিষয় থাকতে পারে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনা চলমান।
প্রধান শর্তাবলি
- হরমুজ প্রণালি খোলা: যুদ্ধবিরতির এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো টোল আদায় করা হবে না। তা ছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে ইরান।
- অবরোধ তুলে নেওয়া: ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞায় কিছু ছাড় দেবে ওয়াশিংটন।
- পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিশ্রুতি: ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করবে না—সেই প্রতিশ্রুতি দেবে দেশটি। তা ছাড়া ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ আরও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাবে।
- তহবিল অবমুক্তি: অবরুদ্ধ করা ইরানের বিভিন্ন তহবিল থেকে দেশটিকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
- মার্কিন বাহিনীর অবস্থান: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করবে মার্কিন বাহিনী। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন।
দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই চুক্তির মেয়াদ ৬০ দিন পরও বাড়ানো যেতে পারে বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব খবর স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতিও প্রস্তাবে রয়েছে।



