ভারতের উত্তরপ্রদেশে ভোরে ঘুম থেকে ডেকে তোলায় স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে হাথরাস জেলার রামপুর জাট্টারি গ্রামে। মৃত ওই কৃষকের নাম লালু সিং (৩৫)। তিনি স্ত্রী আশা দেবী এবং ছয় বছর বয়সী ছেলে আরভ ও এক বছর বয়সী কন্যা আরোহীকে নিয়ে থাকতেন। বুধবার (২০ মে) তিনি আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লালু সিং সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠতেন। কিন্তু বুধবার সকালে, তাদের ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় রান্নাঘরের একটি বন্ধ দরজা খোলার জন্য তার স্ত্রী সকাল ৫টার দিকে তাকে ঘুম থেকে তুলে দেন। পরে এটিকে কেন্দ্র করে লালু এবং তার স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতন্ডা হয় এবং অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি স্ত্রীকে মারধরও করেন।
এরপর তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর পর, স্ত্রী লালুর জন্য চা তৈরি করেন। সকাল ৭টার দিকে চা পান করার সময় লালু তার শ্যালককে ফোন করেন। তিনি শ্যালককে বলেন, ‘এটাই আমাদের শেষ কথা। আমি চলে যাচ্ছি। তোমার বোনকে দেখে রেখো।’ এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি নিজের ঘরে ঢুকে দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। স্ত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশের তদন্ত
খবর পেয়ে সিকান্দ্রারাও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে বিছানার ওপর থেকে লালু সিংয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশ থেকে একটি অবৈধ দেশীয় পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। সিকান্দ্রারাও থানার স্টেশন হাউজ অফিসার (এসএইচও) শিব কুমার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।



