সিলেটের গোয়াইনঘাটে ঘরের দরজা ভেঙে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাধা দিলে তার দাদি দিলারা বেগম (৫৪) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। আহত হয়েছে ওই কিশোরী ও তার মা। শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিলারা বেগমের ছেলে মো. আম্বিয়া প্রায় আট বছর ধরে ওমানে থাকেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে থাকেন। গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আম্বিয়ার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে মা সাজনা বেগম ও দাদি দিলারা বেগম জেগে ওঠেন। তাঁরা বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দিলারা বেগম ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরী ও তার মাকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত মা-মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আবদুল মতিন বলেন, এর আগেও প্রবাসী আম্বিয়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া আম্বিয়ার সঙ্গে এলাকার আরেক ওমানপ্রবাসীর টাকাপয়সা–সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।
পুলিশের বক্তব্য
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ওমানপ্রবাসী হারুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নিহত ওই নারীর ছেলে আম্বিয়ার আর্থিক বিরোধ ছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হামলার ঘটনায় হারুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিয়ানীবাজারে আরেক ঘটনা
এদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজারে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু নিহত হয়েছে। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনেই কিশোর। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে দুই বন্ধু মিলে আম পেড়ে আনে। সন্ধ্যায় আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আম খাওয়ার ছুরি দিয়ে একজন আরেকজনকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, নিহত কিশোরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



