স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোর কণ্ঠস্বর গভীর। কথা বলার ভঙ্গি চমৎকার। শুনে যে কেউই মুগ্ধ হবেন। তিনি শুধু ঘটনা বর্ণনা করেন না, গল্প তুলে আনেন। গল্পগুলো অজানা জীবনযাপনকে চোখের সামনে মূর্ত করে তোলে টিভির পর্দায় থাকা ভিডিওর সঙ্গে।
অবিচল সাহসিকতা
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হোক, কিংবা একটা বিষাক্ত কিং কোবরার সামনেই হোক—তিনি সব সময়ই অবিচল থেকেছেন। হয়তো কোবরা তাঁর মুখে বিষ ছুড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বা একটি অসুস্থ ও ভয়ংকর চিতাবাঘ পাশে শুয়ে আছে, তিনি দর্শকের কথা ভেবেছেন এমন সময়ও। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি দর্শককে সব থেকে মুগ্ধকর বিষয়টি দেখাতে তিনি অবিচল থেকেছেন। কখনো বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর চোখে ভয় দেখা যায়নি, কখনো ছিটকে দূরে চলে যাননি। সব সময় মনে হয়েছে, তিনি যেন প্রকৃতিরই অংশ, কোনো প্রাণীর জন্যই বিপজ্জনক নন।
বিনয়ী ও ভদ্র ব্যবহার
অ্যাটেনবরোরা মানুষ বা প্রাণী, যার সামনেই থাকুন, বিনয়ী ও ভদ্র থেকেছেন। পুরোপুরি বন্য পরিবেশে সবচেয়ে সভ্য মানুষের মতো তাঁর ব্যববহার। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে শো করার সময় তিনি যেমন ছিলেন, পিঁপড়ার সামনে দাঁড়িয়ে পিঁপড়া কলোনির বর্ণনা করার সময়ও তাঁর মধ্যে ভালোমানুষি ও ভদ্রতা দেখা গেছে।
ক্রমাগত উন্নতির চ্যালেঞ্জ
প্রায় ষাট বছর ধরে তিনি রেডিও ও টিভির সঙ্গে আছেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তাঁকে আগের থেকে ভালো করতে দেখা গেছে। বিশ্বজগৎকে মানুষের চোখে আরও স্পষ্ট, সুন্দর, ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনকে সবার চোখের সামনে তুলে এনেছেন তিনি, সমর্থন করেছেন গ্রেটা থুনবার্গকে। এই ৯৮ বছর বয়সেও নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। জলবায়ু ও পৃথিবীকে রক্ষার লড়াই, সমাবেশ, বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে দাবির প্রতি সমর্থন জানান। সবাইকে পথ দেখান।
মানুষকে হাসান
অ্যাটেনবরো যখনই টিভিতে এসেছেন, মজার মজার উদাহরণ ও কৌতুকের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাণিজগৎকে করে তুলেছেন আনন্দের, হাসি ফুটিয়েছেন মানুষের মুখে। ভাবনার জগৎকে অবারিত করেছে তাঁর হাস্যরস। জানার সঙ্গে মানুষ আনন্দও পেয়েছেন।
সবার অনুপ্রেরণা
প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, এমন মানুষের অনুপ্রেরণা অ্যাটেনবরো। নিজের কাজের ক্ষেত্রে তিনি শুধু একজন বিশেষজ্ঞই নন, প্রকৃতি ও কাজকে তিনি সত্যিই ভালোবাসেন। প্রকৃতির প্রতি তাঁর আবেগ ও উৎসাহ দেখে অন্যরা সব সময়ই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাঁর করা যেকোনো একটি টিভি অনুষ্ঠান দেখলেই বুঝতে পারবে, মুগ্ধ না হয়ে থাকা কেন সম্ভব নয়।
তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবর্তন আসবে
এখন প্রকৃতি মাঝেমধ্যেই বিরূপ হয়ে ওঠে। এই প্রচণ্ড গরম তো অসময়ে আবার ঝড়বৃষ্টি। এমন প্রতিকূল সময়েও অ্যাটেনবরো আশাবাদী। যদিও এই সময়ে আশাবাদী হওয়া খুব কঠিন। অ্যাটেনবরো একটি উন্নত বিশ্বের কথা বলেন। বলেন সেই ভবিষ্যতের কথা, যেটি আশা, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণের কথা বলে। তিনি আমাদের ভুল পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেন। তুলে ধরেন আশঙ্কার কথা। প্রবীণ এই প্রকৃতিবিদ বিশ্বাস করেন, বিশ্বকে আরও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। প্রকৃতির প্রতি আমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে।



