দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা শুরু হয়েছে। এদিকে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও দ্রুত পানি বাড়ছে, যা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃষ্টিপাতের রেকর্ড
বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নিকলীতে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া ৯টি জেলায় অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। জানা যায়, ভোলায় ১৫১, ফেনীতে ১৪৮, ময়মনসিংহে ১১৫, খেপুপাড়ায় ১১৪, কুমিল্লা ও সীতাকুণ্ডে ১০৩, চট্টগ্রামে ৯২, পটুয়াখালীতে ৯১ ও নেত্রকোণায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা (বজ্রমেঘ) তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বৃষ্টি ঝরছে।
ভূমিধসের আশঙ্কা
চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভারি বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিনপটিক অবস্থায় দেখা গেছে, মৌসুমি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
নৌপরিবহনে সতর্কতা
নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে আজও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নদীর পানি বৃদ্ধি
দেশের ৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোণার ভুগাই কংশ নদী প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদী ৫০ সেন্টিমিটার, মগরা নদী ২ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারের মনু নদী বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, এই নদীগুলো আকারে ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বেড়ে বন্যা সৃষ্টি করে।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতামত
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’



