ব্র্যাক ব্যাংকের ২৫তম বার্ষিকীতে ২৫ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ
ব্র্যাক ব্যাংকের ২৫তম বার্ষিকীতে ২৫ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক তাদের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে ২৫ হাজার গাছ লাগানোর একটি বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু–সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখতে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ব্যাংকটি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য

বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং সরকারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের সবুজায়ন বাড়ানো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা। ব্র্যাক ব্যাংক মনে করে, এ কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছগুলো আগামী ১০ বছরে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ইতিবাচক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

১৪টি স্থানে ১১৭ প্রজাতির গাছ

এ উদ্যোগের আওতায় দেশের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১১৭ প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয়, বিরল ও বিলুপ্তপ্রায়, ঔষধি, ফলদ, ফুলদ ও কাঠজাতীয় গাছ। জলবায়ু–সহনশীল প্রজাতিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এখানে। মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২ হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এখানে ৩০টি বিরল ও বিলুপ্তপ্রায়, ৫৫টি ফুলদ, ৮টি ফলদ, ২০টি কাঠজাতীয় এবং ৮টি ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা। এখানে বন্য প্রাণীর আবাস সংরক্ষণ, ভূমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি এবং ভূমিতে পানি ও কার্বন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরায়ণ ও বন উজাড়ের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশীয় গাছ সংরক্ষণেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্যোগটি সম্পর্কে ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক হিসেবে আমরা অব্যবহৃত স্থানগুলোকে সবুজ পরিবেশে রূপান্তর করতে চাই, যা মানুষ, শিক্ষা ও জীববৈচিত্র্যের জন্য উপকারী হবে। বিশ্বে জলবায়ু সংকট যখন আরও তীব্র হচ্ছে, তখন এমন উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সহনশীল ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার উদাহরণ তৈরি করতে চাই আমরা।’

নিয়মিত তদারকি ও অংশীদারিত্ব

কর্মসূচিতে গাছগুলোর দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কে অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ সংগঠন ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দেবে এবং ব্র্যাক ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, লিডিং ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জামালপুর মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, খুলনা ডিস্ট্রিক্ট জেল ও নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।