দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ প্রত্যাহার করলো এরদোয়ানের ইসরায়েল আক্রমণের ভুয়া খবর
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান কর্তৃক ইসরায়েল আক্রমণের হুমকি দেওয়ার একটি ভুয়া খবর প্রকাশ করার পর তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। 'এরদোয়ান থ্রেটেনস টু ইনভেড ইসরায়েল' শিরোনামের এই সংবাদটি মূলত দুই বছর আগের একটি বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছাড়াই প্রচার করা হয়েছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই প্রথমে তুলে ধরে।
ভুয়া খবরের বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া
রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেলিগ্রাফ দাবি করেছিল যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বোমা হামলার প্রেক্ষিতে এরদোয়ান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে 'রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ' বলে অভিযুক্ত করেছেন। সংবাদটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এরদোয়ান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লিবিয়া ও কারাবাখে তুরস্ক যেভাবে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও তেমনটা করতে কোনও বাধা নেই।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন ছিল। প্রকৃতপক্ষে এরদোয়ানের এই মন্তব্যগুলো ছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসের, যখন তিনি তুরস্কের রাইজ শহরে ক্ষমতাসীন একে পার্টির এক সভায় বলেছিলেন, 'ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েল যেন এমন অন্যায্য আচরণ করতে না পারে, সে জন্য আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। আমরা যেভাবে কারাবাখ ও লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলাম, তাদের সঙ্গেও একই কাজ করতে পারি।'
তুরস্কের প্রতিবাদ ও টেলিগ্রাফের পদক্ষেপ
সোমবার এক বিবৃতিতে তুরস্ক সরকার জানায় যে, এরদোয়ানের ইসরায়েল আক্রমণের হুমকির খবরটি 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন'। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এসব দাবি সত্য নয় এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা। তুরস্ক বরাবরই রক্তপাত বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।'
এরপর সোমবার সকালে টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনটি মুছে ফেলে। পত্রিকাটির একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এক্সে বলেন, 'আমরা সংবাদটি সরিয়ে নিয়েছি। উদ্ধৃতিগুলো হয় পুরোনো ছিল অথবা একেবারেই বানানো।' টেলিগ্রাফ সংবাদটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই জেরুজালেম পোস্ট ও মারিভসহ বেশ কিছু ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম তা প্রচার করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
ভুয়া খবরের এই বিতর্কের মধ্যেই গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের ওপর 'গণহত্যা' এবং ইরানের 'সন্ত্রাসী সরকারকে' মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
জবাবে আঙ্কারার কর্মকর্তারা গাজা ও পুরো অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহুকে 'এই যুগের হিটলার' হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং মিডিয়া দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলে ধরেছে।



