ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: হাতাহাতির মুখে উত্তেজনা
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ এই বৈঠকে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা প্রায় হাতাহাতির দিকে গড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই দুই দেশের প্রতিনিধি দল নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে।
শান্তিপূর্ণ শুরু, উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তি
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকটি শুরু হয়েছিল ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে। চা ও নাস্তার আয়োজন সহযোগে আলোচনার সূচনা শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছিল।
কিন্তু দ্রুতই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনা প্রথমে বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয়, পরে তা চিৎকারে পরিণত হয়।
হাতাহাতির মুখোমুখি পরিস্থিতি
তুর্কি সাংবাদিক সেতিনের সেতিন এক্সে দাবি করেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ও মার্কিন দূত উইটকফের মধ্যে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রায় হাতাহাতি বেধে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি লিখেছেন, 'হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে মারাত্মক মতবিরোধের কারণে এই উত্তেজনা হয়েছে। ইরানকে কখনো হুমকি দিও না।'
এই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং দুই দলকে আলাদা করতে বাধ্য হন তারা।
চুক্তিহীন প্রত্যাবর্তন ও দায়ারোপ
২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ছেড়ে চলে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।' তিনি দায় চাপিয়েছেন তেহরানের উপর, বলেছেন ইরান মার্কিন শর্ত মানতে রাজি হয়নি।
ভ্যান্স আরও জানান, পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর 'দৃঢ় প্রতিশ্রুতি' এখনো ইরানের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি, যা এই আলোচনার একটি কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল।
মূল বিরোধের তিনটি বিষয়
নিউইয়র্ক টাইমস ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিনটি মূল বিষয়ে বিরোধ রয়ে গেছে যা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ:
- হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্ন
- ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ
- প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের জমাট সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবি
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দিতে বলেছিল, কিন্তু ইরান সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে বৃহত্তর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো পরিবর্তন করবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ব্যর্থ আলোচনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই মতবিরোধ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা সত্ত্বেও আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ভবিষ্যতে অনুরূপ উদ্যোগের সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।



