ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানকে সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ও ড্রাগ অভিযোগে আটক
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানকে ফ্রান্সে আটক

ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানকে সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ও ড্রাগ অভিযোগে আটক

ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানকে সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তার দলীয় সহকর্মী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় ফ্রান্সে সংসদ সদস্যদের দায়মুক্তি কার্যত কাজ করছে না।

পোস্টের বিষয়বস্তু ও সন্দেহ

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে পারিসিয়ান জানিয়েছে, ২৬ মার্চ দেওয়া ওই পোস্টটি সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে—এমন সন্দেহ থেকেই তাকে আটক করা হয়েছে। পোস্টটি ১৯৭২ সালে তেল আবিবের লোদ বিমানবন্দরে চালানো হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই হামলায় জাপানের উগ্র বামপন্থী সংগঠন জাপানিজ রেড আর্মি জড়িত ছিল এবং এতে ২৬ জন নিহত হন।

জানা গেছে, পরবর্তীতে মুছে ফেলা ওই পোস্টে হাসান তার এক্স অ্যাকাউন্টে হামলায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মন্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন, যেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘নিপীড়নের’ যুক্তি তুলে ধরে হামলাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ড্রাগ অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আটকের সময় রিমার কাছে সামান্য পরিমাণ 'সিনথেটিক ড্রাগ' পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বিষয়ে রিমা হাসান বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রিমা হাসানের পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান

৩৩ বছর বয়সি রিমা হাসান ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণবাহী বহরেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী আটকে দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

রিমার এই আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলএফআই-এর পার্লামেন্টারি মেম্বার সোফিয়া চিকিরু বলেন, "ফরাসি পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থাকে ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থকদের ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।" দলের অন্য এক নেত্রী মাথিল্ড প্যানট একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর 'নজিরবিহীন দমনপীড়ন' বলে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনায় ফ্রান্সের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের দায়মুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিমা হাসানের আইনি অবস্থা এবং সামাজিক মাধ্যম পোস্টের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।