কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ রোধে ইউএনডিপির তিন দিনব্যাপী পরিষ্কার অভিযান
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ ঈদ পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি রোধে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। ২৪ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই উপকূলীয় পরিষ্কার অভিযানটি বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ ও পর্যটন অর্থনীতিকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অভিযানের উদ্দেশ্য ও অংশীদার
এই উদ্যোগটি প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযানটি পরিচালিত হবে। মূল লক্ষ্য হলো ঈদ ছুটিতে সৈকতে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস করা, দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চর্চা প্রচার করা এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত
অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ২৪ মার্চ সকাল ১১টায় কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে। কর্মসূচিতে লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট জুড়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের ডেপুটি কমিশনার মো. এ মান্নান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামসুল আল ইমরান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা
অভিযানের অংশ হিসেবে নিম্নলিখিত কার্যক্রমগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- সচেতনতামূলক র্যালি ও পর্যটক, ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও হোটেল অপারেটরদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ
- প্রধান প্রবেশ পয়েন্টগুলোতে নতুন বর্জ্য পাত্র স্থাপন
- প্রতিদিন ৩০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও ২০ জন স্যানিটেশন কর্মী মাঠে নিয়োজিত হয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই ও পরিমাপ করা
- সংগৃহীত বর্জ্য স্থানীয় পুনর্ব্যবহারকারীদের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করা
দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার অংশ হিসেবে ৩০টি বর্জ্য পাত্র পর্যটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
প্রত্যাশিত ফলাফল
ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও তার অংশীদারদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঈদ পরবর্তী সময়ে সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্যের দৃশ্যমান হ্রাস ঘটবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী হবে। এই অভিযান কক্সবাজারের পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও টেকসই পর্যটন খাতের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



