হরমুজ প্রণালিতে থাই জাহাজে হামলা: ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল থাইল্যান্ড
হরমুজ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেছে। থাই সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ও নাবিকদের অবস্থা
গত বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে হরমুজ প্রণালিতে থাই পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার 'মায়ুরি নারি' জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। জাহাজটি ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে অবস্থান করছিল। হামলার ফলে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ঘটনায় তিনজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইঞ্জিন কক্ষে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জরুরি অবস্থায় বেশিরভাগ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) এই হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
একই দিনে তিনটি জাহাজে হামলা
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালিতে শুধু থাই জাহাজই নয়, একই দিনে মোট তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এই জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার শিকার অন্য জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ 'ওয়ান ম্যাজেস্টি': সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে আক্রান্ত হয়েছে। জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদে আছেন এবং এটি একটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
- মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজ 'স্টার গুইনেথ': দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে আঘাতের শিকার হয়েছে। মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক সুরক্ষিত রয়েছেন।
এই হামলাগুলোর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক পদক্ষেপ
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার মাধ্যমে এই ঘটনায় তাদের গুরুতর মনোভাব প্রকাশ করেছে। থাই কর্তৃপক্ষ হামলার পেছনের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সামুদ্রিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। থাইল্যান্ডের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা মেনে নেওয়া হবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



