জাতিসংঘে নিউক্লিয়ার নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান অভিযোগ করেছে, এই ফোরামকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ভুলভাবে চিত্রিত করছে এবং নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে।
ইরানের বিবৃতি ও অভিযোগ
বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং পারমাণবিক উপাদান সরানোর কোনো প্রমাণ নেই। একই সঙ্গে ইরান অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো পরিস্থিতিকে 'ভুক্তভোগী বনাম আগ্রাসী' হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।
ইরান দাবি করে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, আইএইএ মহাপরিচালক এবং বোর্ড অব গভর্নরস 'অবৈধ হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে' এবং ভুক্তভোগী ও আক্রমণকারীর ভূমিকা পাল্টে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ইয়াও ইরানের অবস্থানকে 'চুক্তির জন্য অপমানজনক' বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এনপিটির অপ্রসারণ প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।
অন্যদিকে, আইএইএ-তে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি এসব মন্তব্যকে 'ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যে দেশ একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো নিজের পারমাণবিক ভাণ্ডার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করছে—সেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে চুক্তি মানা হচ্ছে কি না তার বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
ইরানের রাষ্ট্রদূতের সতর্কবার্তা
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরভানি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ইরান সমর্থন করে। তবে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানান।
পারমাণবিক ইস্যু কেন্দ্রে
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাতে পারমাণবিক ইস্যুটি এখন কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।



