জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশ পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও জাতিগত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধির বক্তব্য
মঙ্গলবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বুধবার প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতি, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে।
শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতি
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সচিব বলেন, এর ধারাগুলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, তিনটি আংশিক বাস্তবায়িত এবং চারটি বাস্তবায়নের অধীনে রয়েছে।
সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ
সচিব ফোরামকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবহিত করেন।
তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি জাতিগত সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ জোরদার করতে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় একজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়েছে।
দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস
ফোরামকে সম্প্রসারিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়, গ্রামীণ অবকাঠামো, ডিজিটাল সংযোগ ও জীবিকা বৈচিত্র্যের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসের উদ্যোগ সম্পর্কেও জানানো হয়।
তিনি সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, বৃত্তি, বহুভাষিক ও ই-লার্নিং ব্যবস্থা, হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু সহনশীলতা
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে পার্বত্য জেলাগুলোতে ২০ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুপ কুমার চাকমা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাহাড় ও সমতলের জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।



