জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের অন্যতম সর্বোচ্চ এই সম্মাননা শুক্রবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়। শনিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
পদক প্রদান অনুষ্ঠান
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর কাছে পদকগুলি হস্তান্তর করেন।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন: কর্পোরাল মোঃ মাসুদ রানা, প্রাইভেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ সবুজ মিয়া, মোঃ মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্তো মন্ডল।
মৃত্যুর ঘটনা
জাতিসংঘ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবেই অঞ্চলে শান্তিরক্ষা দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় এই ছয় শান্তিরক্ষী নিহত হন। তারা তখন আবেইয়ের জন্য জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর (ইউএনআইএসএফএ) অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক
ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক কর্মীদের মরণোত্তর স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মহাসচিবের ভাষণ
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে গুতেরেস বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীর অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও শান্তি প্রচেষ্টায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ বছর ৩৩টি দেশের ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি।
শ্রদ্ধা নিবেদন
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে স্থাপিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য ও পুলিশ কর্মী সরবরাহকারী অন্যতম বৃহৎ দেশ এবং তার শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।



