রোহিঙ্গা সংকটে সাহায্য কমেছে, উদ্বেগ প্রকাশ বাংলাদেশের
জাতিসংঘ এবং এর মানবিক সহযোগী সংস্থাগুলোর ২০২৬ সালের আপডেটেড জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে (জেআরপি) রোহিঙ্গা শরণার্থী ও দুর্বল হোস্ট কমিউনিটির জন্য ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে, যা গত বছরের সংশোধিত পরিকল্পনার তুলনায় ২৬% কম। এই হ্রাস হতাশাজনক এবং উদ্বেগজনক বলছে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা কোনো অস্বীকারের সুযোগ নেই। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় ১২ লাখ শরণার্থী বসবাস করছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের শুরুর পর থেকে মিয়ানমারে চলমান নৃশংসতার কারণে প্রায় ১.৫ লাখ নতুন আগমন ঘটেছে বলে জানা গেছে।
হোস্ট কমিউনিটির ওপরও বোঝা পড়েছে, যারা তাদের জমি, সম্পদ এবং জীবিকা উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সম্পদ-সীমিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই উদারতা অসাধারণ, যা কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
আন্তর্জাতিক সাহায্য ঠিক সেই মুহূর্তে কমছে যখন প্রয়োজন বাড়ছে। এই তহবিল হ্রাসের ফলাফল ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান: খাদ্য রেশন কাটা হয়েছে, সুরক্ষা পরিষেবা কম তহবিল পাচ্ছে, এবং আশ্রয় ও স্বাস্থ্য পরিষেবা অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারে নির্যাতন এবং জাতিগত নির্মূলের ফল, এবং এর সমাধানের দায়িত্ব বিশ্বব্যাপী ভাগ করে নেওয়া উচিত। সাহায্য কমানো কেবল বাজেট সামঞ্জস্য নয়, বরং এটি পরিত্যাগের নামান্তর।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে কাজ করার। আমরা আশা করি দাতারা তহবিল পুনরুদ্ধার করবে, হ্রাস করবে না। টেকসই সমর্থন প্রয়োজন পতন রোধ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব বিবেকের পরীক্ষা। বাংলাদেশ তার ভাগের চেয়ে বেশি করছে। বিশ্ব তার অংশটুকু করবে, এটি বাংলাদেশের ন্যূনতম প্রত্যাশা।



