জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশি সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা শুধু শান্তি রক্ষাই নয়, বরং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পুনর্বাসন ও উন্নয়নমূলক কাজেও অংশ নিচ্ছেন।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব
বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছে দেশটি। জাতিসংঘের মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অবস্থান সুসংহত করছে।
- বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিচ্ছে।
- এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।
- বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, 'বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় তার অঙ্গীকারে অবিচল। আমরা বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে।
বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগ বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, 'বাংলাদেশ শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে একটি মডেল দেশ।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান আরও মজবুত হলো।



