পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির চ্যালেঞ্জ: গরু, অনুপ্রবেশ ও শিল্প
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির চ্যালেঞ্জ: গরু, অনুপ্রবেশ ও শিল্প

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার। স্বাভাবিকভাবেই নানা আশা রয়েছে মানুষের, বিজেপির জন্য রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জও। আর সেই চ্যালেঞ্জ আসতে পারে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে। যেমন ক্ষমতায় এসেই বিজেপি গরুসহ গবাদিপশুর জন্মসনদ দেখে তাদের বয়স নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছে; অপ্রাপ্তবয়স্ক গরু কাটা যাবে না। মনে করা হয়েছিল, এতে সাংঘাতিক রেগে যাবে মুসলমান সমাজ, বিশেষত ঈদুল আজহার আগে। কিন্তু ঘটনাটা ঘটল অন্য রকম।

মুসলমানরা একেবারে চুপ করে গেলেন। প্রতিবাদটা এল হিন্দুদের থেকে। হিন্দুদের সেই অংশ থেকে, যাঁরা এত দিন বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ ভাষায় যাঁদের বলা হয় ‘গো–পালক ঘোষ’ সম্প্রদায়। গরু পালন করে, বড় করে, দুধ বিক্রি করে তাঁরা যেমন আয় করেন, তেমনি করেন গরু বিক্রি করেও। গরুর ক্রেতা মুসলমানরা, বিশেষত কোরবানির আগে। একাধিক হিন্দু গো–পালক ব্যবসায়ী বলেছেন, তাঁদের ওপর আক্রমণের আশঙ্কায় মুসলমানরা গরু কিনতে ভয় পাচ্ছেন। ভারতের আর কোথাও বিজেপি এ ধরনের সমস্যায় পড়েছে বলে জানা যায় না, যেখানে হিন্দুরা গরু বিক্রি করতে চাইছেন এবং মুসলমানরা কিনতে অস্বীকার করছেন।

এই রকম নানা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে হবে। কারণ, এটা ঠিক উত্তর ভারতের গভীর মেরুকায়িত সমাজ নয়। হয়তো ভবিষ্যতে হবে, কিন্তু এখনো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের একদিকে যেমন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে ধাবিত হওয়ার ইতিহাস আছে, তেমনই আবার মিলেমিশে থাকার একটা দেড় হাজার বছরের ইতিহাসও আছে। এই ইতিহাসের কারণেই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু গো–পালকেরা প্রশ্ন করছেন, মুসলমানরা গরু না কিনলে তাঁরা বাঁচবেন কী করে? এই সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলার সমাজকে উত্তর ভারতের মতো করে গড়ে নেওয়া বড় সহজ কাজ নয়। এটা বিজেপির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ

এই চ্যালেঞ্জের একটা অংশ যদি হয় পশ্চিমবঙ্গের এক–তৃতীয়াংশ মুসলমানকে সঙ্গে নিয়ে চলা, তবে অপরটি হলো বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি ও কূটনীতির স্বার্থে কাছে নিয়ে আসা। বিপদ সেখানে অনেকটাই গভীরে। এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রীসহ নেতৃত্ব প্রচার করেছেন যে তাঁরা অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠাবেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়নি যে কোথায় পাঠানো হবে, কিন্তু এটা বলা হয়েছে যে তাদের ‘ডিপোর্ট’ করা হবে; অর্থাৎ ফেরত পাঠানো হবে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফেরত পাঠানোর বিষয়টির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করার কথা বলেছেন। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের হাতে পশ্চিমবঙ্গের জমি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসবের পাশাপাশি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে মানুষকে এবং ‘পুশ ব্যাক’ (বাংলাদেশে পুশ ইন) করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের অনেক আগে থেকে একটা ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল যে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মুসলমান ভারতে প্রবেশ করেছেন। এই ন্যারেটিভ দুর্বল করার চেষ্টা নির্বাচনের পরও দেখা যাচ্ছে না, বরং একে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এই দাবির কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত ভিত্তি এখনো নেই, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি ছাড়া। মন্ত্রণালয়ের দাবি, দুই হাজারের বেশি মানুষকে তারা ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে। অতীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মুসলমান তোষণের’ অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক স্বার্থে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে জিইয়ে রাখা হয়েছিল। এখন তৃণমূল কংগ্রেস নেই। এই অবস্থাতেও অনুপ্রবেশের মতো বিষয় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি আরও জোরালোভাবে সামনে আনে কি না, সেটা দেখার।

কূটনৈতিক স্তরে ভারত পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কীভাবে ‘ব্যালেন্স’ করে, সেটাও দেখার বিষয়। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় ভারতের অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সর্বজিৎ চক্রবর্তী—যিনি বাংলাদেশেও উপহাইকমিশনার ছিলেন—এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টির যে নেতিবাচক প্রভাব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর পড়বে, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তাই এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নয়, কেন্দ্রের বিজেপির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে এর পরের চ্যালেঞ্জ পানিচুক্তি। বিজেপি এখন আর বলতে পারবে না যে রাজ্য সরকার তিস্তা পানিচুক্তি বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। কারণ, রাজ্য এবং কেন্দ্র—দুই জায়গাতেই এখন বিজেপির সরকার এবং আরও অন্তত তিন বছর তারা থাকবে। কিন্তু পানি দেওয়াটা সহজ কাজ নয়। কারণ, উত্তরবঙ্গের নদী থেকে পানি টেনে বাংলাদেশমুখী করলে উত্তরবঙ্গে জনরোষ সৃষ্টি হবে, যা কাজে লাগাবে বিরোধীরা। এটাকে রাজ্য ও কেন্দ্রস্তরে বিজেপি কীভাবে সামাল দেয়, সেটাও দেখার বিষয়। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের প্রশ্নও রয়েছে।

দুর্নীতি ও ‘ম্যানেজমেন্ট’

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বিজেপির একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য। কারণ, তৃণমূলের গ্রাম-পাড়া-গলি থেকে শহর সর্বত্র টাকা তোলার প্রাবল্যে মানুষ জর্জরিত হয়ে গিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নেতারা বিরোধীপক্ষে থাকলে প্রায়ই বলেন, দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য বা রাষ্ট্র চাই। তবে কথাটার কোনো মানে দক্ষিণ এশিয়ায় হয় না। এটাকে নির্বাচনে ইস্যু করতে পারাই হচ্ছে সাফল্য, যেটা বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে করতে পেরেছে। এটা ২০১৪ সালে আন্না হাজারেকে সামনে রেখে করেছিল হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, যার সুফল পেয়েছিল বিজেপি।

বিজেপি যে রাজ্যগুলো শাসন করছে, সেখানে বিভিন্ন স্তরে প্রভূত দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপি তাদের প্রধান তুরুপের তাস ব্যবহার করছে। হিন্দুত্বের হাওয়া তুলে সেই সব রাজ্যে তারা এখনো দুর্নীতির ইস্যুটিকে মোটামুটি চাপা দিতে পেরেছে। এই সুযোগ তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ কোনো দলের নেই।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের অতি বড় বন্ধুও বলবেন না যে তাঁদের দলে দুর্নীতি ছিল না। ওই যে রুটি-তরকারি বানানো পরিবার, তাদের থেকে বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে হতদরিদ্রকে দেওয়া টাকা থেকে ‘কাটমানি’ খাওয়ার প্রবণতা এমন বেড়েছিল যে নিম্নবিত্তরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন—এসব খবর এখন জানা যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের একটি নামী সংবাদপত্রের সম্পাদক বলছিলেন, তাঁর গৃহপরিচারিকা বাড়ি বানানোর জন্য সরকারি অর্থসাহায্য পেয়েছিলেন বলে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় এক নেতা চেয়েছিলেন। ‘ফল ঘোষণা হওয়ার আগেই টাকাটা চেয়েছিলেন। কারণ, বুঝতে পেরেছিলেন, হেরে যাবেন’, হাসতে হাসতে বললেন ওই সম্পাদক। তৃণমূল কংগ্রেসের এই তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতি চমৎকারভাবে মাঠপর্যায়ে ইস্যু করতে পেরেছে বিজেপি, যেটা কেন্দ্রে বা বিজেপিশাসিত রাজ্যে পারছে না বলেই ক্ষমতায় আসছে না বিজেপিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া জোট’।

ফলে বিজেপি জানে যে দুর্নীতির প্রশ্ন ভবিষ্যতে উঠবে এবং সেটা উঠলে হিন্দুত্বের ঝড় তুলতে হবে। অন্য রাজ্যের দিকে তাকিয়ে, এটা বলা যায় যে এই ঝড় ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও উঠবে। তবে এটা হয়তো ঠিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটা ‘ম্যানেজমেন্ট’; যেটা বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে করে ফেলবে, যেমন করেছে আসামে।

তৃণমূল কংগ্রেস একটু একটু করে পথে নামতে শুরু করেছে, ইতিমধ্যে মার খেয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি। অপর বিরোধী দল সিপিআইএমও পথে নেমেছে হকার উচ্ছেদকে ইস্যু করে। পশ্চিমবঙ্গে বরাবরই বিরোধীপক্ষ জোরালো ভূমিকা পালন করে, বিশেষত প্রায় সব সময় তাদের মোটামুটিভাবে ৪০ শতাংশ ভোট থাকার কারণে। সেই বিরোধীদের ক্ষমতায় থেকে এবারে সামলাতে হবে বিজেপিকে। এটা নিঃসন্দেহে বিরাট চ্যালেঞ্জ।

শিল্পোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ আরও বড়

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বিজেপির একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, আর্থিক উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, যাতে পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েদের কাজ খুঁজতে বাইরে যেতে না হয়। খুবই ভালো কথা। এই প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা কেউই করবেন না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রতিশ্রুতি পালন করা কি সম্ভব?

শিল্পক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে অনেকেই বামফ্রন্টের মারমুখী শ্রমিক সংগঠন এবং তৃণমূলের উদ্দেশ্যহীন শিল্পনীতিকে দায়ী করেন। এই অভিযোগের মধ্যে কিছু সত্যতা আছে বটে। কিন্তু শিল্পের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের কোমর যিনি বরাবরের জন্য ভেঙে দিয়েছেন, তাঁর নাম জওহরলাল নেহরু, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

ভারত যখন স্বাধীন হয়, পশ্চিমবঙ্গ ছিল সবচেয়ে ধনী রাজ্য—মাথাপিছু আয় ছিল সর্বোচ্চ, কলকারখানাও ছিল সর্বাধিক। নেহরু একের পর এক বড় সংস্থার সদর দপ্তর কলকাতা থেকে সরাতে শুরু করেন; বিভিন্ন স্তরে অসংখ্য শিল্পনীতি পাল্টে পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের শিল্পকাঠামো নড়বড়ে করে দেন। গবেষক ও সাংবাদিকেরা দেখিয়েছেন, নেহরুর উদ্দেশ্য ছিল, স্বাধীনতার আগে কংগ্রেসকে যেসব অবাঙালি শিল্পপতি অর্থসাহায্য করেছিলেন, তাঁদের রাজ্যগুলোকে শিল্পোন্নত করে, ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের শিল্পকাঠামো শেষ করে দেওয়া। যেভাবে পাকিস্তান ধ্বংস করতে চেয়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্পকাঠামো, সেই কাজ পশ্চিমবঙ্গে করেছিল নেহরু নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস।

এখন নির্দিষ্টভাবেই বলা যায় যে নেহরু বাঙালিকে পছন্দ করতেন না। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁর চিঠি এবং গবেষক প্রফুল্ল চক্রবর্তীর বই দ্য মার্জিনাল ম্যান (১৯৬০) পড়লে দেখা যায়, কী গভীর অশ্রদ্ধা নেহরুর ছিল পশ্চিম এবং পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি। এই অশ্রদ্ধা–সংক্রান্ত বৈষম্যের কারণে ১৯৪৭ সালে যেখানে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের ২৭ শতাংশ আসত পশ্চিমবঙ্গ থেকে, সেখানে ১৯৬০-৬১ সালে তা নেমে গিয়েছিল ১৭ শতাংশে।

বস্তুত পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতকে পশ্চিম ও উত্তর ভারতে শ্রমিক জোগানের একটা ‘হাব’ বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললেন নেহরু। তিনি চেয়েছিলেন, উত্তর ও পশ্চিম ভারতকে ‘ক্যাপিটাল’ বা সম্পদের কেন্দ্র হিসেবে গড়তে, শিল্পোন্নত ভারতের ‘এপিসেন্টার’ করতে, করেও ছিলেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেল।

বিজেপির প্রাথমিক সমস্যা হবে, যদি তারা পশ্চিমবঙ্গে শিল্প উৎপাদন, বিশেষত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং’ বা কলকারখানা ফিরিয়ে আনতে চায়। সে ক্ষেত্রে তারা ইতিহাসের গতির উল্টো দিকে হাঁটবে। এটা করলে তাদের বিরোধিতা করবেন মুম্বাই, তামিলনাড়ু, দিল্লির শিল্পপতিরা। শিল্পপতিরা কখনোই চাইবেন না শ্রমিক জোগানের কেন্দ্র রাতারাতি ক্যাপিটালের হাব হিসেবে গড়ে উঠুক। এটা বিজেপির একটা সাংঘাতিক বড় রকমের চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ, শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ। ভারতের বড় রাজ্যগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার ঘনত্ব দ্বিতীয় সর্বাধিক। ১ নম্বরে রয়েছে বিহার; অর্থাৎ জমি নিতে গেলে পশ্চিমবঙ্গে অসংখ্য মানুষকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; যেখানে উত্তর ভারতে ঘনত্ব কম হওয়ার কারণে সামান্য কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দিলেই চলে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র ‘ল্যান্ড হোল্ডিং’ নিয়ে মাথা ঘামাননি বলেই শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থ হয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গে অতএব বৃহৎ শিল্প গড়তে গেলে একদিকে ইতিহাসকে পেছনে ঠেলতে হবে এবং অন্যদিকে বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রশ্ন হলো, বিজেপি-শাসিত ভারত কি বিজেপি–শাসিত বাংলার জন্য, বাঙালির জন্য ঝুঁকি নিয়ে এতটা করবে?