নিট প্রশ্ন ফাঁস: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর
নিট প্রশ্ন ফাঁস: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর

ভারতের বহুল আলোচিত চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ইতিমধ্যেই এ বছরের নিট পরীক্ষা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। তবে পুরো ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। বর্তমানে তিনি বিদেশ সফরে রয়েছেন।

পরীক্ষার দিন ও পরিসংখ্যান

গত ৩ মে ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিট ইউজি পরীক্ষা। এতে প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছে যায়। তদন্তে জানা যায়, ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল পরীক্ষার প্রশ্নের বিস্তর মিল রয়েছে। বিশেষ করে রসায়নের বহু প্রশ্ন ও উত্তর বিকল্প প্রায় হুবহু মিলে যাওয়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

চাপের মুখে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু আশ্বাস দিয়ে দায় এড়ানো যাবে না।

শুরু থেকেই এ ইস্যুতে সরব ছিলেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজস্থানে বড় পরিসরে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, গত বছরও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো পরীক্ষা বাতিল হয়নি বা কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ হয়নি। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—তদন্ত, কমিটি, আশ্বাস, কিন্তু সমাধান নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও কেন শিক্ষামন্ত্রীকে সরানো হচ্ছে না—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সিবিআই তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

এদিকে সিবিআই তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রসায়নের একজন অধ্যাপক এবং জীববিজ্ঞানের একাধিক লেকচারার।

তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্ন তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়েছিল। তদন্তে মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে নামে এক অধ্যাপিকার নামও উঠে এসেছে। তিনি প্রশ্ন তৈরির কমিটির সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। তদন্ত অনুযায়ী, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্রে তার সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে প্রশ্ন ফাঁসে ভেতরের যোগসাজশের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

বিরোধীদের অভিযোগ, পুরো ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় নতুন করে প্রস্তুতি, মানসিক চাপ ও আর্থিক ব্যয়ের চাপও বেড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড আগামী দিনে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, আর সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শিবির কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে চাইছে।