অবৈধ অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয় নীতিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, আগামী জুনে এ বিষয়ে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হতে পারে।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
সোমবার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকটি আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইতালির রাষ্ট্রদূত ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, লিবিয়া দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন চক্রের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। আলোচনায় নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, গন্তব্য দেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষাগত প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করলে নিয়মিত অভিবাসন আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভিবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ ও দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ ভিশন বাস্তবায়নে প্রবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে মানবিক, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক রাখার পাশাপাশি সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেন।



