পাকিস্তানের প্রভাবশালী আলেম ও রাজনীতিবিদ শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস হত্যাকারীদের এখনও গ্রেফতার না করায় দেশটির আলেমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চারসাদ্দা জেলার উসমানখেল এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে চারসাদ্দার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকারীদের শনাক্ত হলেও গ্রেফতার নেই
জিও নিউজের খবরে বলা হয়, শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস হত্যাকারীদের শনাক্ত করা গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সেফ সিটি ক্যামেরার সহায়তায় আসামিদের ছবি সংগ্রহ করেছেন এবং টার্গেট কিলিংয়ে জড়িত চারজনের মধ্যে একজন সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে চারসাদ্দার উসমানখেল থানাধীন এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলে চারজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী এসে শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিসের গাড়িতে নির্বিচারে গুলি চালায়। ঘটনার পরপরই মাওলানা ইদরিস এবং আহত দুই কনস্টেবলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পথেই ওই আলেম মারা যান।
শীর্ষ নেতাদের শোক ও প্রতিক্রিয়া
মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিসকে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গত বৃহস্পতিবার চারসাদ্দায় মাওলানা ইদরিসের বাড়িতে শোক জানাতে আসেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। শোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। সে হিসেবে জুমার নামাজের পর জেইউআই-এফ পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।
আলেমদের কঠোর ভাষ্য
মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, মতভেদের কারণে কোনো মুসলমানকে হত্যা করা সম্পূর্ণ অজ্ঞতা। মাওলানা ইদরিসের চলে যাওয়া সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর শোকের বিষয়। শান্তির সন্ধানে থাকা মানুষটিই শেষ পর্যন্ত অশান্তির শিকার হয়েছেন। আলাদা শোকবার্তায় মুফতি তাকি উসমানী বলেছেন, মাওলানা ইদরিসকে যারা হত্যা করেছে তাদের মুসলমান বা মানুষ বলার অবকাশ নেই। পাকিস্তানের আলেমরা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।



