যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি এই খসড়া চুক্তিটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিশেষ সূত্রে জানিয়েছে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।
চুক্তির মূল শর্তাবলি
আল আরাবিয়ার হাতে আসা চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, উভয় পক্ষই জল, স্থল ও আকাশপথসহ সব ক্ষেত্রে একটি তাত্ক্ষণিক, ব্যাপক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের সামরিক, বেসামরিক কিংবা অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা না চালানোর পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার চলমান ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ বা প্রচারণামূলক লড়াইও স্থগিত করা হবে।
চুক্তিতে একে অপরের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের সুরক্ষায় আরব সাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এই খসড়ায়। চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তা নিরসন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা বা মেকানিজম গঠন করা হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যকার অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। চুক্তির শর্তগুলো ইরান যথাযথভাবে মেনে চললে তার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যা দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার সাথে সাথেই কার্যকর হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
অবশ্য এই চুক্তি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানান যে আলোচনায় কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু রাখার চেষ্টা করে, তবে এই সংকটের কোনো সমাধান হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি অধিকাংশ জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। রুবিও আরও বলেন, আমি অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না। আগামী কয়েক দিন কী ঘটে, তা আমাদের দেখতে হবে।
বাকি মতপার্থক্য ও বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
এদিকে রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার টেবিলে দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো কিছু বিষয়ে মতদ্বৈধতা রয়ে গেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা। তা সত্ত্বেও, পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতায় দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে একে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।



