৫ বছরের মধ্যে তাইওয়ানে হামলার আশঙ্কা ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের
৫ বছরের মধ্যে তাইওয়ানে হামলার আশঙ্কা ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠককে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তার নিজস্ব উপদেষ্টারাই ভিন্ন সুর গাইছেন। তাদের আশঙ্কা, এই বৈঠকের ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে তাইওয়ান সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

উপদেষ্টাদের উদ্বেগ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা গোপনে আশঙ্কা করছেন যে এই শীর্ষ বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রভাব হতে পারে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাইওয়ানের ওপর চীনের আগ্রাসন বা বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ। বৈঠকের পরিবেশ আপাতদৃষ্টিতে উষ্ণ হলেও, বেইজিংয়ের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা অ্যাক্সিওসকে জানান, শি জিনপিং বিশ্বমঞ্চে চীনকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের বার্তা স্পষ্ট— আমরা কোনো উদীয়মান শক্তি নই, আমরা আপনাদের সমান সমান। আর তাইওয়ান আমাদের। তিনি বলেন, এই সফরের পর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুটি সামনে চলে আসার আশঙ্কা অনেক বেড়ে গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে প্রভাব

উপদেষ্টা আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এর জন্য একেবারেই প্রস্তুত নই। আমাদের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ সরবরাহের চেইন স্বনির্ভর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। করপোরেট সিইও এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য চিপ সরবরাহের সংকটের চেয়ে বড় কোনো মাথাব্যথা এ মুহূর্তে নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের 'নেগোশিয়েটিং চিপ' মন্তব্য

চীন সফর শেষে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে একটি পেন্ডিং অস্ত্র বিক্রির চুক্তিকে বেইজিংয়ের সাথে দরকষাকষির 'হাতিয়ার' বা 'নেগোশিয়েটিং চিপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাইওয়ানের জন্য আটকে থাকা ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি তিনি অনুমোদন করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি চীনের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আমি এটি স্থগিত রেখেছি, এটি চীনের ওপর নির্ভর করছে। সত্যি বলতে, এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ দরকষাকষির হাতিয়ার।

এর আগে গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প এবং মার্কিন কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তাইওয়ানের চারপাশে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালায়। এই শীর্ষ বৈঠকের সময় চীন আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে 'চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু' হিসেবে অভিহিত করেছে।

এছাড়াও, তাইওয়ানের বিশ্বখ্যাত মাইক্রোচিপ শিল্পকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প তাইপেইকে চমকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি দেখতে চাই তাইওয়ানের চিপ নির্মাতারা সবাই আমেরিকায় চলে আসুক। এটিই হবে সবচেয়ে দারুণ কাজ।

তাইওয়ানের পালটা জবাব

ওয়াশিংটনের এসব মন্তব্যের জবাব দিতে দেরি করেনি তাইপেই। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে শনিবার (১৬ মে) জানানো হয়েছে যে, তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি ও অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, রিপাবলিক অব চায়না একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ; এটি স্বতঃসিদ্ধ। ফলে বেইজিংয়ের দাবিগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তবে তাইওয়ান এখনো ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ এবং মার্কিন আইন অনুযায়ীই তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়া আমেরিকার দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মূলত ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের জবাবেই এই প্রতিক্রিয়া জানায় তাইপেই। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে নন। ট্রাম্প বলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করুক। তাছাড়া, একটি যুদ্ধের জন্য আমাদের ৯,৫০০ মাইল পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাচ্ছি না।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতাও করে না। এই সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যটিই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।