ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বর জেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৯০০ জনের বেশি। এই ঘটনাকে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বালেশ্বর জেলার বাহানগা বাজার স্টেশনের কাছে শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস এবং বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে একাধিক বগি। কিছুক্ষণ পরেই একটি মালবাহী ট্রেন এসে ধাক্কা মারে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম
ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ), ওড়িশা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন। রাতভর উদ্ধার কাজ চলে। শনিবার সকালেও উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হতাহতের সংখ্যা
শনিবার সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৮৮ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৯০০ জনের বেশি। অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এই ঘটনাকে 'অভূতপূর্ব' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ১ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিগন্যালিং সিস্টেমের ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলগুলি সরকারের রেল নিরাপত্তা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনেছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।
এই দুর্ঘটনা ভারতের রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলের আধুনিকীকরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিকল্প নেই।



