মিয়ানমারে শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৬৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩,৪০৮ জন।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের কাছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই অগভীর গভীরতার কারণে ভূমিকম্পটি আরও বেশি ধ্বংসাত্মক ছিল। মান্দালয়সহ আশপাশের এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে, রাস্তাঘাট ফেটে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ কার্যক্রম
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনজীবনে প্রভাব
ভূমিকম্পের আতঙ্কে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রাস্তায় নেমে এসেছেন। অনেকে শিশুদের কোলে নিয়ে দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীও অংশ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারের এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও ভারত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। জাতিসংঘও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।



