আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শনিবার (২৭ জুন) ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রাজধানী কাবুলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কম্পনের বিস্তারিত তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এর গভীরতা ছিল ২০৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার। এএফপির সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থান করে ভূমিকম্পটি অনুভব করেছেন। কাবুলে কয়েকটি ভবন কেঁপে ওঠে এবং এক সাংবাদিক জানান, একটি ভবনের ভেতরের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
প্রভাবিত অঞ্চল
বালখ, বাদাখশান, নানগারহার ও খোস্তসহ বিভিন্ন প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়েছে। বাদাখশান ও বালখের সীমান্ত তাজিকিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও ভূমিকম্প অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ আফগানিস্তান
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলে ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থল হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। গত এপ্রিলে বাদাখশান প্রদেশে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২ জন নিহত হন। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে পূর্ব আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার অগভীর ভূমিকম্পে পাহাড়ি ঢালের কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায় এবং ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। কয়েক সপ্তাহ পর উত্তর আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন নিহত হন। এছাড়া ২০২৩ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত এবং ২০২২ সালে পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শত শত মানুষ নিহত হন এবং হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ
এএফপি জানায়, কয়েক দশকের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানের অনেক গ্রামীণ বাড়ি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে দেশটিতে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণেও প্রায়ই বিলম্ব হয়।



