নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৬ হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার।
বেড়িবাঁধ প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় বিগত সরকার। পরে স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন হয়নি। কিছু অংশে খননকাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
ক্ষতিপূরণ বিতরণে ধীরগতি
প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, ‘প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীদের বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারেনি। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলছে স্থানীয় লোকজন।’
নড়াইল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিক বার জমি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে চেক দেওয়া হবে।



