নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মৃত্যু
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে গিয়ে একটি দুর্ঘটনায় অন্তর ও ইমন নামে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতে দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েত ভূঁঞা এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের কারণে দুই বন্ধু তেল আনতে ফেনীর একটি পাম্পে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৃহস্পতিবার বিকালে অন্তর ও ইমন মোটরসাইকেলে করে তেল আনতে বাড়ি থেকে বের হন। তেল নিয়ে ফেরার পথে, দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতভূঞা এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাত যানবাহনের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় অন্তর সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়।
ইমন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এইভাবে, দুর্ঘটনার চার দিন পর ইমনেরও মৃত্যু ঘটে, যা পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিহতদের পরিচয় ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহত ইমন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিন হাজীর বাড়ির রেজাউল হকের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন এবং পরিবারের সবার ছোট সন্তান হিসেবে পরিচিত। রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনায়েত উল্লাহ জানান, ইমনের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের মাতম চলছে এবং স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
অন্তর উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকের বাজার-সংলগ্ন মৃধাবাড়ির একরামুল হকের ছেলে ছিলেন। তার মৃত্যুও পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল হাকিম বলেন, 'বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। তবে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।
এই ঘটনা নোয়াখালী অঞ্চলে তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



