চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গরুর গুঁতোয় নিহত ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী
লোহাগাড়ায় গরুর গুঁতোয় নিহত শিক্ষার্থী

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গরুর গুঁতোয় নিহত ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় গরুর গুঁতোয় শারাবন তাহুরা নিজুম (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

নিজুম আমিরাবাদ মল্লিক ছোবহান নজরআলী সিকদার পাড়া (তেওয়ারীখিল) এলাকার মাহফুজুর রহমান ও রোকেয়া বেগমের মেয়ে ছিলেন। তিনি পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কোচিংয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে স্কুলে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের মূল ফটকে বাজারে বিক্রয়ের জন্য আনা একটি গরু সজোরে গুঁতো দেয় নিজুমকে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কিশোয়ার সাদিয়া তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। ডা. সাদিয়া বলেন, "গরুর গুঁতোয় আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনার পরপরই তার মৃত্যু হয়।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশি তদন্ত

নিজুমের মা রোকেয়া বেগম শোকাহত হয়ে বলেন, "প্রতিদিনের মতো আমার মেয়েটা কোচিং শেষে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।" খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনায়েত হোসেন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "এ ঘটনার আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।" পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে কথা বলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্প্রদায়ের শোক ও সতর্কতা

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই গরু ও অন্যান্য পশুর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবহুল এলাকায় পশু বিক্রি ও পরিবহনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনা শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।