দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সুমন মিয়া নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ মে) দক্ষিণ আফ্রিকার কেজেডএন (কোয়াজুল-নাটাল) প্রদেশের নিউ ক্যাসেল শহরের কাছে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত সুমন মিয়ার পরিচয়
নিহত সুমন মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. মইজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে। সুমনের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে বইছে শোকের মাতম।
পরিবারের বর্ণনা
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান ও সুমনের বাবা মইজ উদ্দিন জানান, সাত ভাই-বোনের মধ্যে সুমন ছিল সবার ছোট। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত ১৪ বছর ধরে সে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সেখানে কঠোর শ্রমের বিনিময়ে নিজের নামে গড়ে তুলেছেন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
হত্যার বিবরণ
রোববার ব্যবসায়িক কাজ শেষে মালামাল নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ফেরার পথে বাংলাদেশ সময় আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে একদল সন্ত্রাসী রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তার গাড়িতে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে তার মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়। হত্যার পর মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তদন্ত ও দাবি
কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। এদিকে সুমনের হত্যার খবর বাড়িতে এসে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শত শত লোকজন তার গ্রামের বাড়িতে ভিড় করছে। নিহত সুমনের স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব ও মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যুর বিষয়টি তারা পরিবারের বরাতে জানতে পেরেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মরদেহ দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



