কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা ভেঙে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পৌরসভা ছাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
বিদ্যুৎহীন পাঁচ ইউনিয়ন
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার লাখো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে এবং পানির সংকটসহ নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষজন। গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্র জানায়, বুধবার বিকালে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার অন্তত ১০০টি স্থানে গাছপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১২টি খুঁটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং বহু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পল্লী বিদ্যুতের সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
যান চলাচল ব্যাহত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ে শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে গাছ সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি।
ভোগান্তির কথা জানালেন বাসিন্দারা
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, বুধবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। ঝড়ে গাছ পড়ে খুঁটি ও তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না, মোবাইল চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ নেই। মানুষ অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই কষ্টকর।
মেরামত কাজ চলছে
টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ঝড়ে আমাদের অন্তত ১১টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বহু স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। মেরামত কাজ চলছে। আশা করছি বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমাদের। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।



