বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে গেল ৫ দোকান, বাড়ি ও গবাদিপশুর খামার
বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান, একটি বাড়ি ও একটি গবাদিপশুর খামার সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
কখন ও কোথায় ঘটলো এই অগ্নিকাণ্ড?
মঙ্গলবার ভোররাত প্রায় ২টার দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন নং ৩-এর ৯ নং ওয়ার্ডের ওয়াগয় পাড়ার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পাঁচটি দোকান, একটি আবাসিক বাড়ি ও একটি গবাদিপশুর খামার সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত করে ফেলে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত?
এই অগ্নিকাণ্ডে দোকানে সংরক্ষিত পণ্য, দুটি মোটরসাইকেল এবং গবাদিপশু—যার মধ্যে তিনটি গরু ও দুটি ছাগল ছিল—সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, মুন্যজয় তঞ্চঙ্গ্যা, কল্যাণময় তঞ্চঙ্গ্যা, কৃষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস। তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতার কারণে তারা কোনো সম্পদ বাঁচাতে পারেননি।
আগুন নেভাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল?
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতের বেলা যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন, তখনই প্রথমবারের মতো আগুন লক্ষ্য করা যায়। দমকল বাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক মূল্য কত?
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা অনুমান করেছেন যে মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে দমকল বাহিনী ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে।
প্রশাসনের তরফ থেকে কী সহায়তা দেওয়া হয়েছে?
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ধারণা, কৃষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের গবাদিপশুর খামার থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে, যদিও এখনও পর্যন্ত সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।



