পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্য বছরের মতো উপচে পড়া যাত্রীচাপ না থাকলেও ভোগান্তিতে পড়েছেন হাতিয়া-বেতুয়া ও মনপুরা রুটের যাত্রীরা। এই রুটে চলাচলকারী তাসরিফ ও ফারহান নামে দুটি লঞ্চ সকালে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়ার পর দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় নতুন কোনও লঞ্চ না আসায় বিপাকে পড়েন শতাধিক যাত্রী।
বিশেষ করে হাতিয়া, বেতুয়া ও মনপুরা অঞ্চলে নৌপথ ছাড়া বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সদরঘাটে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, তাসরিফ লঞ্চ আবার আসবে এবং যাত্রীদের নিয়ে যাবে।
যাত্রীদের বর্ণনায় ভোগান্তির চিত্র
বুধবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে পরিবার নিয়ে সদরঘাটে আসেন আমিনুল ইসলাম। এর কিছুক্ষণ আগেই ভোলার মনপুরাগামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তিনি লঞ্চের অপেক্ষায় ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করেছি। তারা বলছে আরেকটা লঞ্চ আসবে, অপেক্ষা করতে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত বসে আছি, কিন্তু এখনো কোনও লঞ্চ পাইনি।”
গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন রুমা আক্তার। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টার দিকে সদরঘাটে আসেন তিনি। কিন্তু লঞ্চ না পেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।
রুমা আক্তার বলেন, “গতকাল গার্মেন্টস ছুটি হয়েছে। ভিড়ের কথা ভেবে আজ এসেছি। কিন্তু এসে দেখি লঞ্চ নেই। আমাদের এলাকায় যেতে লঞ্চ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই। শুনেছি লঞ্চ আসবে, তাই অপেক্ষা করছি।”
একইভাবে মনপুরাগামী যাত্রী শফিউল ইসলামও লঞ্চের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানান, দোকানের চাকরির কারণে আগে রওনা হতে পারেননি। আজ সদরঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএর অবস্থান ও পরবর্তী ব্যবস্থা
সদরঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, ঈদের শেষ সময়ে অন্যান্য রুটে যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকলেও হাতিয়া ও মনপুরা রুটে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত লঞ্চ আনার চেষ্টা চলছে।
তবে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লঞ্চটি এসে পৌঁছায়, যা যাত্রীদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।



