টানা বৃষ্টিতে রংপুরের ৪০ পাড়া মহল্লা প্লাবিত, ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি
টানা বৃষ্টিতে রংপুরের ৪০ পাড়া মহল্লা প্লাবিত, পানিবন্দি ১৫ হাজার পরিবার

টানা বৃষ্টিতে রংপুরের নগরীর ৪০টি পাড়া মহল্লা হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১৫ হাজার পরিবার। অন্যদিকে সড়কসহ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

পাঁচ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (২২ মে) ভোর ৪টা থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টার পর বৃষ্টি কমলেও ৪০টি পাড়া মহল্লায় হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর প্রধান সড়ক লালবাগ, ধাপ, নিউ জুম্মাপাড়া, কুকরুল এমনকি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসও দেড় থেকে দুই ফুট পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রংপুর নগরীর সিটি করপোরেশন এলাকার ৪০টি পাড়া-মহল্লা হাঁটু পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে অব্যাহত বৃষ্টিতে রংপুর আবহাওয়া অফিসসহ হাজার হাজার বাড়িঘর, স্কুল-মাদ্রাসা তলিয়ে আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নগরীর মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবু খা পশ্চিম, বাবু খা উত্তর, লালবাগ, গনেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠান পাড়া, কুকরুল, ইসলামপুর, নিউ জুম্মাপাড়া, মুন্সিপাড়া, লালবাগসহ কমপক্ষে ৪০টি মহল্লা এখন হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে আছে। ওই সব এলাকার নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় কমপক্ষে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি

আবহাওয়া অফিসের সামনের সড়কে গিয়ে দেখা গেছে চারতলা মোড় থেকে পুরো মাস্টারপাড়া হয়ে বাবু খা পর্যন্ত সড়ক ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে হেঁটে পার হচ্ছেন। প্রাইভেটকার, ট্রাক, অটোরিকশাসহ যানবাহনগুলো গর্তে ভরা প্লাবিত সড়কটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। খোদ আবহাওয়া অফিসের ভেতরেও পানি। সড়কের আশেপাশে বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ

ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বৃদ্ধ আফছার আলী জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে এমন বৃষ্টি আগে কখনও দেখেননি তিনি। তার ওপর সড়কের পানি অপসারণের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশে ড্রেনগুলো পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। অন্যদিকে মাস্টারপাড়া সড়কসহ আশেপাশের সড়কের পানি অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশন কোনও পদক্ষেপ নেয় না। তিনি বলেন, এমন বৃষ্টি আর একদিন হলে আমাদের বাড়িঘর পুরোটাই তলিয়ে যাবে।

অন্যদিকে মাস্টারপাড়ার পার্শ্ববর্তী পশ্চিম ও দক্ষিণ বাবু খা ও গনেশপুর এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে প্রতিটি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। আসবাবপত্রসহ মালামাল তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় দোকানদার মমতাজ বেগম জানান, তার দোকানের ভেতরে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, রংপুর সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পানি না নামায় ১৫টি মহল্লার বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা এবং শ্যামা সুন্দরী খালে প্রবেশ করার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয় নাই। তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ যদি পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতো তাহলে এমন সমস্যা হতো না।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অপরদিকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৩৬ মিলিমিটার। সবমিলিয়ে ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে জানতে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডনের মোবাইল নম্বরে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।