কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা শিবিরে ৮ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত একটা থেকে তিনটার মধ্যে বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরের চারটি স্থানে পৃথকভাবে এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা।

পাহাড়ধসের ঘটনা নিশ্চিত করলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের কারণে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরও পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে। আশ্রয়শিবিরের অনেক রোহিঙ্গা পাহাড়ের ঢালুতে বসবাস করেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টি

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামতলী শিবিরে এক পরিবারের তিনজন নিহত

রোহিঙ্গা নেতা আকতার কামাল বলেন, রাত দেড়টার দিকে জামতলী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৫) ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় খণ্ড ধসে রোহিঙ্গা নাগরিক কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর চাপা দেয়। এ সময় ঘুমিয়ে থাকা কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাসের (৪) মৃত্যু হয়। গভীর রাতে ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা মাটি সরিয়ে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেন। ওই পরিবারের আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুতুপালং শিবিরে শিশুর মৃত্যু

রাত দুইটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৭) ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা রশিদ উল্লাহর ছেলে।

বালুখালী শিবিরে এক পরিবারে চারজনের মৃত্যু

রাত সাড়ে তিনটার দিকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১১) সি-১১ ব্লকে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি পরিবারে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং ভাই হারুনুর রশিদ (৩) ও মোহাম্মদ রিহান (৫)।

উদ্ধার অভিযান ও শিবিরের ঝুঁকি

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে তাঁদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০১৭ সালের উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে তাতে ৩৪টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখ। এর মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গার মৃত্যু হচ্ছে।