সিলেটে বন্যায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি, দ্রুত সহায়তা জরুরি
সিলেটে বন্যায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি, দ্রুত সহায়তা জরুরি

সিলেটের বন্যায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও সিলেট সদর উপজেলা। এসব এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম

জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য ইতিমধ্যে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিমাণ ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বন্যায় সিলেটের মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। দ্রুত আরও ত্রাণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

বন্যায় সিলেটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ রুটেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

পূর্বাভাস ও সতর্কতা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।’ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিলেটে অতিরিক্ত ত্রাণ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।