মুকেশ আম্বানির জিও প্ল্যাটফর্ম শেয়ারবাজারে আসছে, হতে পারে রেকর্ড আইপিও
জিও প্ল্যাটফর্ম শেয়ারবাজারে আসছে, রেকর্ড আইপিও হতে পারে

ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন জিও প্ল্যাটফর্ম শেয়ারবাজারে আসার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব হতে পারে। গতকাল শুক্রবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভায় আম্বানি জানান, জিওর পরিচালনা পর্ষদ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের খসড়া বিবরণী অনুমোদন করেছে।

জিওর গ্রাহক ও লক্ষ্য

ভারতের সবচেয়ে বড় টেলিযোগাযোগ অপারেটর জিওর গ্রাহকসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার তোলার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির। ভারতের শেয়ারবাজারে কয়েক মাসের অস্থিরতার পর নতুন শেয়ার ইস্যুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কতটা আছে, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও জিওর তালিকাভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আম্বানির বক্তব্য

আম্বানি বলেন, জিওর এই তালিকাভুক্তি থেকে বিশ্ব দেখবে, ভারত বৈশ্বিক মানের প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলতে পারে, যে কোম্পানির আছে বৈশ্বিক সক্ষমতা ও মূল্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিওর যাত্রা ও সম্প্রসারণ

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে জিও। স্বল্পমূল্যের মোবাইল ডেটা সেবা দিয়ে ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে তারা। অল্প সময়েই কোটি কোটি গ্রাহক পায় তারা। পরে ক্লাউড কম্পিউটিং, করপোরেট সেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা বিস্তৃত করে। গত বছর জিও ও প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতী এয়ারটেল আলাদাভাবে স্পেস এক্সের সঙ্গে চুক্তি করে ভারতে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রায় এক বছর অপেক্ষা

প্রায় এক বছর অপেক্ষার পর জিওর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের ঘোষণা এলো। গত বছর আম্বানি বলেছিলেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আনা হবে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো সাধারণত বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে তারা শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ করে।

এনএসইর তালিকাভুক্তি

জিওর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব ঘোষণার এক দিন আগেই ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া নিজেদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তালিকাভুক্তির জন্য নথি জমা দিয়েছে। এতে ভারতের পুঁজিবাজারে নতুন গতি এসেছে। অফার মূল্য ও বাজারমূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনএসইর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব থেকেও ৩০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার তোলা হতে পারে।

বড় আইপিওর সম্ভাবনা

জিও ও এনএসই—এই দুই তালিকাভুক্তি গত কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবগুলোর একটি হতে পারে। দুই বছর আগে হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়া ৩৩০ কোটি ডলারের আইপিও নিয়ে আসে। এই দুটি আইপিও তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, জিওর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব সফল হলে সাম্প্রতিক মন্দার পর ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন করে আস্থা ফিরতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামো

টেলিযোগাযোগের বাইরে জিও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগ করছে। চলতি মাসের শুরুতে মেটা প্ল্যটফর্ম জানিয়েছে, গুজরাটে রিলায়েন্স যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করছে, মেটা তা ব্যবহার করবে। ১৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্র ভারতের অন্যতম বৃহৎ তথ্যকেন্দ্র হতে যাচ্ছে। ২০২০ সালে মেটা ও রিলায়েন্সের যে অংশীদারি শুরু হয়েছে, এটি তার ধারাবাহিকতা। সে সময় মেটা জিওতে ৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। এর পর থেকে ভারতীয় ব্যবসা ও উন্নয়নকারীদের জন্য মেটার উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল সহজলভ্য করতে যৌথ উদ্যোগও নিয়েছে তারা।

জিওর সম্ভাব্য মূল্যায়ন

বিনিয়োগ ব্যাংক জেফারিস ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ গত নভেম্বরে হিসাব করে জানিয়েছিল, জিওর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। এতে এটি বিশ্বের অন্যতম দামি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি হতে পারে। রিলায়েন্স গ্রুপের জন্যও এই তালিকাভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কেননা, ২০০৬ সালে রিলায়েন্স পেট্রোলিয়ামের পর এই প্রথম তাদের বড় কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে।