পালাউ: বাংলাদেশের পতাকার মতো দেখতে দেশটির পতাকার গল্প
পালাউ: বাংলাদেশের পতাকার মতো দেখতে দেশটির ইতিহাস

পালাউ: যে দেশের পতাকা বাংলাদেশের মতো!

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ছোট্ট দেশ পালাউ। দেশটির নাম অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও, এর জাতীয় পতাকা দেখলে যে কোনো বাংলাদেশির চোখ আটকে যাবে। সবুজের জায়গায় নীল আর লালের জায়গায় হলুদ বসিয়ে দিলে যেমন দেখাবে, পালাউয়ের পতাকা ঠিক তেমনই। তবে এই মিল কি কেবল কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গল্প?

একই ডিজাইন, ভিন্ন অর্থ

বাংলাদেশের পতাকার নকশা তৈরি হয় ১৯৭১ সালে। অন্যদিকে পালাউ তাদের বর্তমান পতাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি। অর্থাৎ নকশার দিক থেকে পালাউ অনেক পরে এলেও ডিজাইনে মিল থাকলেও দুটি পতাকার রঙের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

যেভাবে এলো এই নকশা

১৯৮০ সালে পালাউ যখন স্বায়ত্তশাসনের দিকে এগোচ্ছিল, তখন একটি জাতীয় পতাকা নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। হাজারো আবেদনের মধ্য থেকে জন ব্লাউ স্কেবং নামে এক ব্যক্তির নকশাটি বিজয়ী হয়। স্কেবং চেয়েছিলেন এমন একটি পতাকা তৈরি করতে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য দেশ থেকে আলাদা হবে এবং পালাউয়ের স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীল সাগর ও হলুদ চাঁদ: রঙের মহিমা

পালাউয়ের পতাকার প্রতিটি রঙের গভীর অর্থ রয়েছে। নীল পটভূমি প্রশান্ত মহাসাগরকে নির্দেশ করে, যা পালাউয়ের জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রধান উৎস। পাশাপাশি এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। অন্যদিকে হলুদ বৃত্তটি পূর্ণিমার চাঁদ। বাংলাদেশের পতাকায় লাল বৃত্ত উদীয়মান সূর্যের প্রতীক হলেও পালাউয়ের হলুদ বৃত্ত চাঁদকে বোঝায়।

কেন সূর্য নয়, চাঁদ?

পালাউয়ের কৃষি ও জীবনযাত্রার ছন্দ নিয়ন্ত্রিত হয় চাঁদের দশার ওপর ভিত্তি করে। তাদের পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতেন, পূর্ণিমার চাঁদ নতুন শুরুর প্রতীক। মাছ ধরা থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান—সবকিছুই চাঁদের হিসেব মেনে সম্পন্ন করা হয়। এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই স্কেবং সূর্যের বদলে চাঁদকে বেছে নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাপানের পতাকার সাথে তুলনা

অনেকে মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের দখলে থাকায় পালাউ তাদের পতাকার (হিনোমারু) অনুকরণে এটি তৈরি করেছে। তবে ডিজাইনার স্কেবং এই ধারণা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, জাপানের পতাকায় লাল বৃত্ত সূর্যকে বোঝায়, আর পালাউয়ের হলুদ বৃত্ত চাঁদকে বোঝায়—যার অর্থ ও দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা।

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বকীয়তার প্রতীক

দীর্ঘ সময় স্প্যানিশ, জার্মান, জাপানি এবং মার্কিন শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৮১ সালে যখন পালাউ নিজস্ব প্রজাতন্ত্র (Republic of Palau) গঠন করে, তখন থেকেই এই পতাকাটি তাদের স্বাধীনতার গর্বিত প্রতীক হয়ে ওঠে। আজ বৈশ্বিক মঞ্চে যখন নীল-হলুদ রঙের এই পতাকাটি ওড়ে, তখন তা প্রশান্ত মহাসাগরের এক আত্মপ্রত্যয়ী জাতির পরিচয় বহন করে।