যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার অনুমিত ছিল: জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার অনুমিত ছিল: জার্মান মন্ত্রী

জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের যে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, সেটি ‘অনুমিত’ অর্থাৎ আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। রোববার (৩ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দুই দেশের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। এই সেনা উপস্থিতি কেবল জার্মানির জন্যই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থেও অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত পূর্বাভাসযোগ্য ছিল এবং এটি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ন্যাটোর অবস্থান

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট। তিনি বলেন, ন্যাটো এই সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং জোটের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেনা প্রত্যাহারের পটভূমি

ইরান যুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্ৎসের মধ্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপটি এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের সমালোচনা করার পর, কারণ তিনি বলেছিলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের আলোচকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপদস্থ’ হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান সেনা মোতায়েনের চিত্র

বর্তমানে জার্মানিতে ৩৬ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। এটাই ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ ইতালিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার। এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইউরোপে মার্কিন সামরিক অবস্থানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্য

এর আগে, শনিবার এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শুধু পাঁচ হাজার নয়, এর চেয়ে বেশি সেনা কমানো হবে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে আরও সেনা প্রত্যাহার হতে পারে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।