যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অবিলম্বে কিউবার ওপর আরোপিত সমস্ত অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, জবরদস্তি এবং চাপ বন্ধ করা হোক। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মাও নিং বলেন, ‘মনগড়া অভিযোগ ও ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে অবরোধ ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কিউবার বিরুদ্ধে একতরফা অবরোধ আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং কিউবার জনগণের জন্য অপরিমেয় দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর তীব্র বিরোধিতা করে।’
গোয়েন্দা পর্যালোচনার ফলাফল
জানা গেছে, রুবিও ২ জুন একজন মার্কিন সিনেটরের দেওয়া বিবৃতিটি উপেক্ষা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল, বাইডেন প্রশাসনের অধীনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, কিউবার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।
জাতিসংঘের খাদ্য বিতরণে ব্যাঘাত
এদিকে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতির ফলে জাতিসংঘ কিউবায় প্রায় ২০ হাজার টন খাদ্য কার্যকরভাবে বিতরণ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি কিউবার জনগণের জন্য আরও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীনের মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান, যাতে কিউবার বিরুদ্ধে এই অবৈধ ব্যবস্থাগুলো প্রত্যাহার করা হয়।



