মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ রুকুন নেগারার নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করে, তারা মালয়েশিয়ার নাগরিক হিসেবে পরিচিত হওয়ার যোগ্য নয়। সোমবার (১ জুন) ইস্তানা নেগারায় তার সরকারি জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত পদক ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রুকুন নেগারার গুরুত্ব
রাজা বলেন, ১৯৭০ সালের ৩১ আগস্ট প্রবর্তিত রুকুন নেগারা কেবল একটি জাতীয় অঙ্গীকার নয়, বরং দেশের বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি ভিত্তি। তিনি সকল পক্ষকে রুকুন নেগারার প্রতিটি নীতিকে সমুন্নত রাখার এবং দৈনন্দিন জীবনে তা অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার রানী জারিথ সুফিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল, উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল এবং বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ভাষণে সুলতান ইব্রাহিম বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ, সহনশীল এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। রুকুন নেগারার নীতিমালা অনুসরণ করে জাতীয় সংহতি বজায় রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যই মালয়েশিয়ার শক্তির মূল ভিত্তি। এই ঐক্যের ওপরই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জাতিগত সম্প্রীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নির্ভরশীল। এ সময় তিনি দেশের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের ১৩ মে সংঘটিত জাতিগত দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কিছু পক্ষের উগ্র আচরণ, পারস্পরিক অসম্মান এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার অভাবের কারণে সেই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল।
রাজা বলেন, “সেই ঘটনা জনগণের মধ্যে ঐক্য নষ্ট করেছে এবং দেশের স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছে। ইতিহাস যেন আর কখনো পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
পদক প্রদান অনুষ্ঠান
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মালয়েশিয়ার রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর এটি ছিল সুলতান ইব্রাহিমের তৃতীয় আনুষ্ঠানিক পদক প্রদান অনুষ্ঠান। এ বছর তাঁর সরকারি জন্মদিন উপলক্ষে মোট ১৬১ জন ব্যক্তিকে ফেডারেল পর্যায়ের বিভিন্ন সম্মাননা, পদক ও উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।



