দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনও ‘তীব্র হুমকি’ রয়েছে বলে ফিলিপাইন দাবি করছে। এর পরদিনই বিতর্কিত ওই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় টহল দিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী ও কোস্ট গার্ড। রোববার (৩১ মে) চীন ও ফিলিপাইনের পক্ষ থেকে এই সামরিক তৎপরতার কথা জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের যৌথ মহড়া
এর আগে গত সপ্তাহে স্কারবরো শোলের কাছে একই জলসীমায় পাঁচ দিনের যৌথ সামুদ্রিক মহড়া চালায় ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। চলতি বছরে এটি ছিল দুই দেশের তৃতীয় যৌথ মহড়া। ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই ছিল এর লক্ষ্য। মহড়ায় জাহাজে ওঠা, তল্লাশি ও জব্দ করার অনুশীলনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়মভিত্তিক সামুদ্রিক ব্যবস্থার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
চীনের পাল্টা টহল
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমান ইউনিট স্কারবরো শোল এবং এর আশপাশের ‘আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমায়’ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল পরিচালনা করেছে। এ ধরনের টহল সব ধরনের অধিকার লঙ্ঘন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় কার্যকর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। তবে এতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইন বারবার মুখোমুখি অবস্থানে জড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজের সংঘর্ষ ও নৌকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। স্কারবরো শোল এশিয়ার সবচেয়ে বিতর্কিত সামুদ্রিক অঞ্চলগুলোর একটি। ফিলিপাইন যাকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগর বলে অভিহিত করে, সেই এলাকায় সার্বভৌমত্ব ও মাছ ধরার অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।



