ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানে অস্ত্র মহড়া ও টেলিভিশনে প্রশিক্ষণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধ হুমকির পর ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যাপক অস্ত্রের উপস্থিতি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, 'ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, অন্যথায় তাদের অস্তিত্বের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।' এই বার্তার পর ইরানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
রাস্তায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ বুথ
প্রায় তিন মাস ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেহরানের বিভিন্ন স্কয়ারে 'অস্ত্র প্রশিক্ষণ বুথ' স্থাপন করা হয়েছে। ভেনাক স্কয়ারের একটি বুথে কালো চাদর পরা নারীদের একে-৪৭ রাইফেল সংযোজন ও বিয়োজন শিখতে দেখা গেছে। এমনকি ছোট শিশুদেরও খালাসনিকভ রাইফেল হাতে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে। তাজরিষ স্কয়ারের কাছে প্রতিদিন হাজার হাজার ইরানি নাগরিক 'আমেরিকা নিপাত যাক' স্লোগানে সমাবেশ করছেন। তিয়ানা নামের এক তরুণী বলেন, 'দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য আমরা জীবন উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।'
টেলিভিশনে অস্ত্র প্রদর্শন
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও অস্ত্র ধারণের আহ্বান ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। ওফোগ চ্যানেলের উপস্থাপক হোসেন হোসেইনি লাইভ অনুষ্ঠানে আইআরজিসির এক সদস্যের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্টুডিওর ছাদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে গুলি ছোড়েন। চ্যানেল-থ্রির নারী উপস্থাপিকা মবিনা নাসিরিও দর্শকদের উদ্দেশ্যে লাইভ শো-তে অস্ত্র হাতে নিয়ে জানান, সাধারণ মানুষের মতো তিনিও অস্ত্র চালানো শিখছেন।
পরমাণু কর্মসূচির পক্ষে জনসমর্থন
হুমকির মুখেও ইরানের সাধারণ মানুষ পরমাণু কর্মসূচির পক্ষে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করছেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া এক বৃদ্ধ নাগরিক বলেন, 'পরমাণু প্রযুক্তি আমাদের সীমানার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কোনো বোমা নয়, বরং পরিচ্ছন্ন শক্তির জন্য এই প্রযুক্তি চাই।'
শান্তির কণ্ঠস্বরও শোনা যাচ্ছে
তবে যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বাইরে ইরানের একটি বড় অংশ শান্তির পক্ষেও কথা বলছেন। তাজরিষ স্কয়ারের রাজনৈতিক সমাবেশের ঠিক পাশেই একটি শান্ত পার্কে অনেক ইরানি নাগরিক স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, 'আমরা কেবল একটি স্বাভাবিক দেশে শান্তিতে বসবাস করতে চাই, যেখানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।' সরকারি প্রচারণার ডামাডোলে এই শান্তির কণ্ঠস্বরগুলো ঢাকা পড়ে গেলেও, যুদ্ধ ও শান্তি নিয়ে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।



