সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন এই পাইপলাইনটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনক এক বিবৃতিতে জানায়, গালফ অব ওমানের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত একটি পাইপলাইন দ্রুতগতিতে নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ঘোষণা ও নির্মাণ
বিবৃতিতে বলা হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক বৈঠকে এ প্রকল্পের ঘোষণা দেন। নতুন পাইপলাইনটি আগে থেকেই নির্মাণাধীন রয়েছে। এই পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে ইউএই তাদের তেল রপ্তানি কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।
বিদ্যমান সক্ষমতা ও নতুন পরিকল্পনা
বর্তমানে ইউএইর হাবশান–ফুজাইরাহ পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। নতুন পাইপলাইন যুক্ত হলে দেশটির রপ্তানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএই আগে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে দৈনিক প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই পথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি।
নতুন পাইপলাইন চালু হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেও প্রায় পুরো আগের সক্ষমতা অনুযায়ী তেল রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউএই ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ঝুঁকি
ইরান–গালফ অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে এই পাইপলাইন প্রকল্পকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে সংঘাতের সময় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে এবং কিছু স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই পাইপলাইন প্রকল্পটি সেই ঝুঁকি হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরি করা মধ্যপ্রাচ্যের তেল বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই ধরনের কৌশল ইতোমধ্যে সৌদি আরবও গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে তারা রেড সি রুট ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করছে।



