হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখায় ট্রাম্প-শির ঐক্যমত্য, চীনের সহযোগিতার আশ্বাস
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখায় ট্রাম্প-শির ঐক্যমত্য

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখায় ট্রাম্প-শির ঐক্যমত্য

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালি' উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ন্ত্রণে এই জলপথটি দিয়ে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে দুই নেতাই মনে করেন।

এদিকে, ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানায়। তেহরান কোনো ধরনের চাপের মুখে 'মাথা নত করবে না' বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি আলোচনা

একই সময়ে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা সরাসরি বৈঠক শুরু হয়েছে। অবশ্য কূটনৈতিক এই আলোচনার মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনা কোম্পানির সাথে যুক্ত জাহাজসহ অন্তত ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশটির নৌবাহিনীর সাথে সহযোগিতা বজায় রাখলে এই জলপথ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের প্রতিশ্রুতি ও কূটনৈতিক ক্লান্তি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সাথে এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বছরের পর বছর ধরে নানা বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে একটি 'প্রমিজ ফ্যাটিগ' বা প্রতিশ্রুতি ক্লান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে এবারের শীর্ষ সম্মেলনটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে দুই দেশের সম্পর্কের আর কোনো অবনতি না ঘটে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি

অন্যদিকে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ওয়াশিংটনে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে 'ইতিবাচক' বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো জটিল। হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট, ড্রোন ও কামান হামলা অব্যাহত রেখেছে। লেবানন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার চাইলেও, ইসরাইল চাইছে হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ—যা এই আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।