যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের' (এমওইউ) পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আজ সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে দুই দেশের 'টেকনিক্যাল পর্যায়ের' বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বৈঠকে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধি দল
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। এই মেগা বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে, ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে তেহরানের প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যেই জুরিখে এসে পৌঁছেছে।
স্থায়ী শান্তিচুক্তির অনিশ্চয়তা
সমঝোতা স্মারক সই হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে এখনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি শিগগির সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে যেতে পারেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি।
ইরানের অবস্থান ও হরমুজ প্রণালি
ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তাদের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে আজ আবার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি 'প্রথম পদক্ষেপ' এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
বৈঠকের পটভূমি ও লক্ষ্য
কাতার ও পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের লুজানের নিকটবর্তী বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এই বিশেষ কারিগরি ও রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার ঐতিহাসিক খসড়া সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করেই আগামী ৬০ দিনের জন্য এই রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অঞ্চলটিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করা।



