অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যবসার ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে যুক্তরাজ্যের অনেক কোম্পানি এখন স্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির শীর্ষ দুটি নিয়োগ সংস্থা কেপিএমজি ও রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কনফেডারেশন (আরইসি) গত সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক প্রবণতা তুলে ধরেছে।
অস্থায়ী চাকরি বাড়ছে, স্থায়ী কমছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে অস্থায়ী চাকরির প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিপরীতে, স্থায়ী কর্মী নিয়োগের হার গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে কমেছে। বিশ্লেষকরা এই পরিবর্তনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন: রাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি। এই কারণে কোম্পানিগুলো নতুন স্থায়ী কর্মী নিয়োগে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে পড়েছে, যা কর্মসংস্থানের বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আরইসির প্রধান নির্বাহী নিল কারবেরি বলেন, উচ্চ খরচ, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট এবং নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী নিয়োগে লাগাম টেনে ধরেছে। এই শূন্যতা পূরণ করছে অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান। চাকরি হারানো, নতুন চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। মে মাসে প্রায় ৪০০ নিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জরিপে এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। তবে প্রার্থী বাড়লেও চাহিদা কমায় এবং বাজেট সংকুচিত হওয়ায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হার ছিল খুবই সীমিত।
খাতভিত্তিক চিত্র
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধুমাত্র নার্সিং, চিকিৎসা ও সেবা খাতে স্থায়ী কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে, খুচরা বিক্রয় (রিটেইল) খাতে স্থায়ী চাকরির সুযোগ সবচেয়ে বেশি কমেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির গতিও মন্থর হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, কাজ বা পড়াশোনার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণীর সংখ্যা এক দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
তরুণদের জন্য চ্যালেঞ্জ
খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নেক্সটের প্রধান নির্বাহী সাইমন উলফসনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা বলছেন, এন্ট্রি-লেভেল চাকরির সুযোগ নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে। কেপিএমজির জন হোল্ট বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক করে তুলছে। অনেকে নমনীয়তা বজায় রাখতে অস্থায়ী কর্মী নিচ্ছে এবং স্থায়ী নিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত বা বিলম্বিত করছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও যুব সমাজের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।



