ফরহাদ হোসেনের সাক্ষাৎকার: নিউহামের মেয়র হিসেবে প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার
ফরহাদ হোসেনের সাক্ষাৎকার: নিউহামের মেয়র হিসেবে প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার

প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে নিউহামের নির্বাহী মেয়র ফরহাদ হোসেন তার রাজনৈতিক যাত্রা, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি একজন অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তার সাফল্যকে কমিউনিটির সেবা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল বলে মনে করেন।

মেয়র হওয়ার স্বপ্ন ও যাত্রা

ফরহাদ হোসেন বলেন, নিউহামে বেড়ে ওঠার সময় তার লক্ষ্য কখনো কাউন্সিলর বা মেয়র হওয়া ছিল না। তার মূল মনোযোগ ছিল কমিউনিটির সেবা করা। তিনি মনে করেন, তার যাত্রা দেখায় যে নিউহাম তথা যুক্তরাজ্য মানুষকে কী ধরনের সুযোগ দিতে পারে। কঠোর পরিশ্রম, কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার যে কাউকে তাঁর পটভূমি নির্বিশেষে নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

ঐতিহাসিক অর্জন

নিউহাম তথা যুক্তরাজ্যের মূলধারার বড় রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি এই অর্জনকে ঐতিহাসিক ও বিনয়ী করে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আশা করেন, এটি তরুণ ব্রিটিশ-বাংলাদেশিসহ অন্যান্য কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া কমিউনিটিগুলোকে নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোটারদের বার্তা

জাতীয়ভাবে লেবার পার্টি ধাক্কা খেলেও নিউহামে ফরহাদ হোসেন মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটাররা ব্যক্তি ও তাঁর প্রতিনিধিত্ব করা মূল্যবোধ—উভয়কেই বিবেচনায় নিয়েছেন। এই ফলাফল দেখায় যে বাসিন্দারা স্থানীয় ইস্যুতে মনোযোগী এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্ব চেয়েছেন।

প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার

মেয়র হিসেবে প্রথম ১০০ দিনের জন্য ফরহাদ হোসেনের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সেবা ও রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা উন্নত করা।
  • এমন একটি ন্যায্য ও মানবিক পার্কিং নীতি বাস্তবায়ন করা, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, কিন্তু বাসিন্দাদের অযথা শাস্তি দেবে না।
  • পুলিশ ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে অপরাধ, অসামাজিক আচরণ মোকাবিলার মাধ্যমে কমিউনিটি নিরাপত্তা জোরদার করা।

আবাসন, পরিচ্ছন্নতা ও জননিরাপত্তা পরিকল্পনা

ফরহাদ হোসেন বলেন, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। আরও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও সরবরাহ করতে হবে। অসাধু বাড়িওয়ালা ও অতিরিক্ত জনাকীর্ণ বাসস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে হবে এবং অবৈধভাবে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করে অপরাধ ও অসামাজিক আচরণ মোকাবিলা করতে হবে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি বার্তা

নিউহামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ফরহাদ হোসেন তাদের উদ্দেশে বলেন, নিউহামে সাফল্যের জন্য তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সবাইকে জনজীবনে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিনিয়োগ এবং কমিউনিটি নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশি নেতৃত্বের প্রসঙ্গ

টাওয়ার হ্যামলেটসেও লুৎফুর রহমান পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। লন্ডনের পাঁচটি নির্বাহী মেয়রশাসিত বরোর দুটিতে বাংলাদেশি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে ফরহাদ হোসেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতিফলন হিসেবে দেখেন। তিনি মনে করেন, এটি গণতন্ত্রকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলছে এবং তরুণ প্রজন্মকে জনসেবায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।

দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কৌশল

অতীতে অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রাজনীতিক উচ্চ পর্যায়ে গেলেও দীর্ঘদিন প্রভাব ধরে রাখতে পারেননি। ফরহাদ হোসেন মনে করেন, রাজনীতি মূলত কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়। তিনি মানুষের কথা শোনা, বাস্তব সমস্যার সমাধান করা এবং দৃশ্যমান ফলাফল দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

তরুণদের জন্য পরামর্শ

রাজনীতি ও জনসেবায় আসতে আগ্রহী তরুণ ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্য ফরহাদ হোসেনের পরামর্শ: খুব অল্প বয়স থেকেই সম্পৃক্ত হোন, স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করুন, কমিউনিটি সংগঠনে যুক্ত হোন, স্থানীয় ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করুন এবং জনসেবার প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার গড়ে তুলুন। ব্যর্থতায় নিরুৎসাহিত না হয়ে নেতৃত্বের শুরু নিজের কমিউনিটির সেবা করার মধ্য দিয়ে করুন।

ভবিষ্যৎ স্মৃতি

৫ বা ১০ বছর পর মানুষ ফরহাদ হোসেনকে কী কারণে মনে রাখুক? তিনি চান, মানুষ বলুক যে তিনি নিউহামকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও ঐক্যবদ্ধ একটি বরো হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। বাসিন্দারা যেন তাঁদের বরো নিয়ে গর্ব বোধ করেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকেন।