ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা, আলোচনায় অগ্রগতি
ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার মধ্যেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য শান্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’।

জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্য

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় অনেক বিষয় থাকলেও তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটিই— ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। তিনি দাবি করেন, চুক্তির ভাষাতেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সরে আসবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে এবং এই চুক্তির মাধ্যমে সেটিকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আর আগের অবস্থায় নেই। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সামরিক চাপ যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সক্ষমতা সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের অবস্থান

অন্যদিকে ইরান আবারও দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনেই তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রাথমিক চুক্তির খসড়া আগামী শুক্রবারের আগেই প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকটি খুব বড় নয়, তবে এতে ভবিষ্যত আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তার মতে, মূল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়েছে, আর বাকি কারিগরি বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনায় চূড়ান্ত হবে।

ভ্যান্স আরও জানান, চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শকদের আবার ইরানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক সুবিধা ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও বিবেচনায় আসবে।

হরমুজ প্রণালি ইস্যু

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারকে সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বার্তা

এদিকে ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অর্থ ব্যয় করবে না এবং সম্ভাব্য যে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি নির্ভর করবে ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর। একই সময়ে তিনি লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার একটি করে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাসের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।